যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তোলা সাবেক এক ছাত্রী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মাইকেল কটলিকফের কাছ থেকে তিনি কোনো সমর্থন পাননি। বরং তার মনে হয়েছে, তার কথা বিশ্বাস করা হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বর্তমানে ২২ বছর বয়সী ওই ছাত্রী নিজের পরিচয় গোপন রাখতে জেন ডো নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন।
চিঠিতে জেন ডো জানান, অভিযোগ জানানোর পর তার ভ্রাতৃসংঘের তৎকালীন সভাপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের একটি কথোপকথনের কথা তিনি জানতে পারেন। ওই কথোপকথনে মাইকেল কটলিকফ জানতে চেয়েছিলেন, অভিযোগ জানাতে এত দেরি হলো কেন। জেন ডোর ভাষ্য অনুযায়ী, তার ভ্রাতৃসংঘের সভাপতি প্রশ্নটিকে তার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
জেন ডো লেখেন, ওই কথোপকথনের কথা জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের কাছ থেকে নিজেকে অসহায় ও অবিশ্বাসের শিকার বলে মনে হয়েছিল তার। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার অভিজ্ঞতাকে সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করবে কি না, সে বিষয়ে তার আস্থা কমে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই ঘটনা ঘটে। একই বছরের ৮ নভেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশকে জানান, একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে একদল পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেন ডোর চিঠিতে বর্ণিত কথোপকথনের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্রের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাইকেল কটলিকফ যে প্রশ্ন করেছিলেন, তা জেন ডোকে সন্দেহ করার জন্য ছিল না। বরং ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেনামি তথ্য জানানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করেননি, তাদের উদ্দেশে প্রশ্নটি করা হয়েছিল।
শিক্ষক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের প্রস্তাব বিবেচনার আগে সদস্যদের অবগত করতেই চিঠিটি দিয়েছেন বলে জানান জেন ডো। তবে ওই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মতামত দেননি।
জেন ডো একদল পুরুষের বিরুদ্ধে তাকে মাদক প্রয়োগ করে ধর্ষণের অভিযোগে দেওয়ানি মামলা করেছেন। একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্যই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলাটি থেকে ভ্রাতৃসংঘের সাবেক এক সভাপতির নাম বাদ দেওয়া হয়। অভিযোগের সময় তিনি ওই শাখার সভাপতি ছিলেন বলে ভুল করে তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে, মামলার অভিযোগ সামনে আসার পর টম্পকিনস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন পুনরায় তদন্ত শুরু করেন। তবে পরে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এর আগে জেলা অ্যাটর্নি দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জেন ডোর দেওয়া শপথযুক্ত বিবৃতিতে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাদক প্রয়োগ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়নি। বরং ওই বিবৃতিতে মাদক গ্রহণ ও যৌন আচরণকে স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে এবং সম্মতিসূচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জেন ডোর মামলায় ফৌজদারি অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্তের পর টম্পকিনস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাউন্টি আইনসভায় ১৪-২ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এতে জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নীতিমালা পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো মামলায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীর সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ করা এবং সব ধরনের প্রমাণ পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
আইনসভার সদস্য আইরিন ওয়াইজার বলেন, জেন ডোর মামলা পরিচালনায় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে গুরুতর ব্যর্থতা ছিল বলে তিনি মনে করেন। এসব বিষয় স্বীকার করা, পরীক্ষা করা এবং সংশোধন করা প্রয়োজন।
জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেনও স্বাধীন পর্যালোচনায় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, তদন্ত বা পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ আরও ভালো করার সুযোগ পাওয়া গেলে তিনি তাতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এদিকে, জেন ডোর অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও নিজেদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে।
বর্তমানে ২২ বছর বয়সী ওই ছাত্রী নিজের পরিচয় গোপন রাখতে জেন ডো নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন।
চিঠিতে জেন ডো জানান, অভিযোগ জানানোর পর তার ভ্রাতৃসংঘের তৎকালীন সভাপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের একটি কথোপকথনের কথা তিনি জানতে পারেন। ওই কথোপকথনে মাইকেল কটলিকফ জানতে চেয়েছিলেন, অভিযোগ জানাতে এত দেরি হলো কেন। জেন ডোর ভাষ্য অনুযায়ী, তার ভ্রাতৃসংঘের সভাপতি প্রশ্নটিকে তার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
জেন ডো লেখেন, ওই কথোপকথনের কথা জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের কাছ থেকে নিজেকে অসহায় ও অবিশ্বাসের শিকার বলে মনে হয়েছিল তার। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার অভিজ্ঞতাকে সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করবে কি না, সে বিষয়ে তার আস্থা কমে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই ঘটনা ঘটে। একই বছরের ৮ নভেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশকে জানান, একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে একদল পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেন ডোর চিঠিতে বর্ণিত কথোপকথনের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্রের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাইকেল কটলিকফ যে প্রশ্ন করেছিলেন, তা জেন ডোকে সন্দেহ করার জন্য ছিল না। বরং ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেনামি তথ্য জানানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করেননি, তাদের উদ্দেশে প্রশ্নটি করা হয়েছিল।
শিক্ষক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের প্রস্তাব বিবেচনার আগে সদস্যদের অবগত করতেই চিঠিটি দিয়েছেন বলে জানান জেন ডো। তবে ওই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মতামত দেননি।
জেন ডো একদল পুরুষের বিরুদ্ধে তাকে মাদক প্রয়োগ করে ধর্ষণের অভিযোগে দেওয়ানি মামলা করেছেন। একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্যই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলাটি থেকে ভ্রাতৃসংঘের সাবেক এক সভাপতির নাম বাদ দেওয়া হয়। অভিযোগের সময় তিনি ওই শাখার সভাপতি ছিলেন বলে ভুল করে তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে, মামলার অভিযোগ সামনে আসার পর টম্পকিনস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন পুনরায় তদন্ত শুরু করেন। তবে পরে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এর আগে জেলা অ্যাটর্নি দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জেন ডোর দেওয়া শপথযুক্ত বিবৃতিতে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাদক প্রয়োগ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়নি। বরং ওই বিবৃতিতে মাদক গ্রহণ ও যৌন আচরণকে স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে এবং সম্মতিসূচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জেন ডোর মামলায় ফৌজদারি অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্তের পর টম্পকিনস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাউন্টি আইনসভায় ১৪-২ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এতে জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নীতিমালা পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো মামলায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীর সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ করা এবং সব ধরনের প্রমাণ পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
আইনসভার সদস্য আইরিন ওয়াইজার বলেন, জেন ডোর মামলা পরিচালনায় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে গুরুতর ব্যর্থতা ছিল বলে তিনি মনে করেন। এসব বিষয় স্বীকার করা, পরীক্ষা করা এবং সংশোধন করা প্রয়োজন।
জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেনও স্বাধীন পর্যালোচনায় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, তদন্ত বা পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ আরও ভালো করার সুযোগ পাওয়া গেলে তিনি তাতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এদিকে, জেন ডোর অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও নিজেদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে।
আন্তজার্তিক ডেস্ক